শিবু বোঝালেন, ‘ইচ্ছে’ই মানুষের আসল শক্তি

তাঁর প্রথম সিনেমার নাম ছিল ‘ইচ্ছে’। ‘উইন্ডোজ’ প্রযোজনা সংস্থার অন্যতম যাদুকর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মানুষকে বুঝিয়েছেন, ইচ্ছে থাকলে, পেছনে ইন্ডাস্ট্রির কেউ না থাকলেও, মানুষের ভালবাসা পাওয়া সম্ভব। বরানগর মিশনের সেই ছোট্ট শিবু আজ পা রাখল পঞ্চাশের কোঠায়।

তাঁর নাম করলে, আরো একজনের নাম এসে যায় যেন কিছুটা নিজে থেকেই। তিনি নন্দিতা রায়। ২০১১ সালে মুক্তি পেয়েছিল নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম সিনেমা, ‘ইচ্ছে’। কেমন ছিল সেইসব দিন? নতুন দুই পরিচালকের হাত ধরেছিল ইন্ডাস্ট্রির কেউ?
আসলে, কোনো ক্ষেত্রেই ‘বিনা যুদ্ধে’ কেউ মাটি ছেড়ে দেয় না। উঠতি দুই পরিচালককে অকারণে হালে পানি কেনই বা দেবে কেউ! তাই সেসব ছাড়ুন। ভাবুন, যুদ্ধের অস্ত্র কেবল কাজ হলে, সত্যি হতে পারে কত স্বপ্ন! ‘ইচ্ছে’র পর, ‘মুক্তধারা’ কি ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ থেকে শুরু করে, ‘রামধনু’ ‘হামি’, ‘কণ্ঠ’, ‘পোস্ত’, ‘গোত্র’ – মানুষ অকুণ্ঠভাবে ভালবেসেছেন প্রত্যেকটিকে।

একবার নন্দিতা রায় বলেছিলেন, প্রতিদিন তাঁকে পঞ্চাশ-ষাটটা করে ‘ওয়ান লাইনার’ কনসেপ্ট দেন শিবপ্রসাদ। কোথা থেকে পান এত কনসেপ্ট! জার্নালিজমের কাজ করতেন ‘আনন্দলোক’-এ। অভিনয়ও করেছেন ধারাবাহিকে। বহু মানুষের জীবনকে দেখেছেন তিনি। চারপাশের বিভিন্ন ঘটনাই আসলে সার-জল দেয় তাঁর ভাবনাচিন্তায়। ‘প্রাক্তন’ থেকে শুরু করে ‘বেলাশেষে’ – সবই তো মানুষের গল্প! আর সবকটাই ‘গল্প হলেও সত্যি’।

মানুষের ভালবাসা ‘বেলাশেষে’কে পৌঁছে দিয়েছে জাতীয় স্তরে। গত দশকে মুক্তিপ্রাপ্ত সব ছবির মধ্যে সবচেয়ে বেশীদিন প্রেক্ষাগৃহে চলেছে সেই সিনেমা। ‘অলীক সুখ’ দেখানো হয়েছিল কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। ‘কণ্ঠ’ও দেখানো হয়েছিল বাংলার বাইরে, জয়পুরের চলচ্চিত্র উৎসবে। ‘মুক্তধারা’র মুক্তির পরে, তাঁকে ফোন করে মিডিয়া-সংক্রান্ত বিষয়ে কড়া হতে বলেছিলেন স্বয়ং ঋতুপর্ণ ঘোষ।

মানুষ তাঁকে ভালবেসেছেন। পরিবারের মানুষ পাশে থেকেছেন তাঁর। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত, রাখী গুলজারের মত ব্যক্তিত্বের স্পর্শ পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন আশীর্বাদ, স্নেহও। এক জীবনে এত ভালবাসা, আশীর্বাদের সঙ্গে নিজের ‘ইচ্ছে’শক্তি মিশলে, তাঁকে কি আর থামানো যায়! সেই সাহসে ভর করেই হয়ত, তিনি এগোতে পেরেছেন একটা ‘রক্তবীজ’ কি ‘বহুরূপী’র দিকে!
জন্মদিনে বয়স বাড়ুক, সঙ্গে বাড়ুক প্রাণশক্তি। ‘প্রাক্তন’ সব সমস্যাকে পিছনে ফেলে, এগিয়ে যান শিবপ্রসাদ। ‘রামধনু’র সাত রঙ ছড়িয়ে পড়ুক তাঁর জীবন জুড়ে।

Author

  • Debasmita Biswas

    বেথুন কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক। পড়ার নেশা ছোট থেকে, প্রাথমিকভাবে লেখালেখির শুরু শখেই। তারপর সংবাদপত্র, পত্র-পত্রিকায় সমালোচনা পড়ার অভ্যাস আর বিভিন্ন নাটক, সিনেমা দেখার পর বিশ্লেষণ করার শখ থেকেই ইচ্ছে সমালোচক হওয়ার। বিনোদনজগতের বিভিন্ন খবর করার পাশাপাশি নাটক এবং সিনেমা দেখে তার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন তিনি।

    View all posts
Scroll to Top