ফোটোগ্রাফারের অসহায়তা ফুটে উঠবে ছবির ‘নেগেটিভ’-এ

বর্তমানসময়ে সাইকোলজিক্যাল জঁর নিয়ে কাজ করে চলেছেন অনেকেই। তবে মনস্তত্ত্বের সঙ্গে সাম্প্রতিক, দৈনন্দিন সমস্যা যুক্ত হলে, দর্শকদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরো অনেকটাই বেড়ে যায়। মনস্তত্ত্ব এবং অর্থকষ্ট, অসহায়তার মিশেলে এক অন্যধরনের গল্প বুনেছেন পরিচালক বাপ্পা। সম্প্রতি শেষ হল তাঁর নতুন ছবি ‘নেগেটিভ’-এর শ্যুটিং।

উপেক্ষিত শিল্পী বিশ্বকর্মার (রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়) পেশা ছবি তোলা। যদিও তার শৈল্পিক-নান্দনিকবোধ, তার চারপাশের কেউই বুঝতে পারে না। কাজ হিসেবে তাই জোটে কেবল মৃত মানুষের ছবি তোলার বায়না। অর্থকষ্ট সামলেও কারখানায় কাজ করে সংসার টানে তার স্ত্রী মালা (দেবলীনা দত্ত)। এত দারিদ্র্যের মধ্যেও, স্বামীর প্রতি সম্মানমেশানো মমত্ববোধ কাজ করে মালার। কিন্তু বিশ্বকর্মা নিজের মনোজগতে ক্রমশঃ একা হতে শুরু করে। একসময়ে দুটি চূড়ান্ত অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের দু’জনকেই।

কী সেই সিদ্ধান্ত? একজন শিল্পী কি এইসময়ে দাঁড়িয়ে শেষপর্যন্ত নিজের শিল্পবোধ নিয়ে টিকে থাকতে পারবেন? A4J ফিল্মস প্রযোজিত এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন শান্তনু নাথ।

পরিচালক বাপ্পা তাঁর প্রথম ছবি ‘শহরের উপকথা’য় কাজ করেছেন নাট্যকার বাদল সরকারের নাটক নিয়ে। তিনি জানান, ‘আদ্যোপান্ত নাটক নিয়েই থাকি। সিনেমা বানানোর ইচ্ছে হয় তখনই, যখন এমন কোনো ভাবনার সঞ্চার হয় মনে, যে এই কাজটা করা উচিত নিজের জন্য না, সমাজের জন্য। সেখান থেকেই এই নেগেটিভ সিনেমাটি বানানোর সিদ্ধান্ত। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে থেকেই বড় হয়েছি, তাই শিল্পীর একটা অন্যরকম লড়াই দেখেছি; আর্থিক সংকটের সংঘর্ষ দেখেছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে, পরবর্তী সময় যেটা আমাকে নাড়া দিয়েছে সেটা হল, যে কোনো সৃষ্টির একটা পরিচিতি লাগে। নাহলে অধিকাংশক্ষেত্রেই সেই শিল্প-সৃষ্টি হারিয়ে যায় বা বৃথা বলে প্রমাণিত হয়।’

রাহুল আর দেবলীনা ছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে শ্রীলেখা মিত্র (বারবণিতা), রানা বসু ঠাকুর (বিশ্বকর্মার মিডিয়া বস সীতারাম), শান্তনু নাথ (বিশ্বকর্মার বাল্যবন্ধু পল্টু) ও রিমি দেবকে (পল্টুর বান্ধবী রাধা, পেশায় যৌনকর্মী)।

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাপ্পার সঙ্গে এটা আমার দ্বিতীয় কাজ। বাপ্পার যেটা ভালো লাগে, ও নিজের টিম নিয়ে খুব গর্বিত আর নিজের টিম কে খুব প্রাধান্য দেয়। ‘নেগেটিভ’ ছবিটা আমার নিজের করে খুব ভালো লেগেছে, তার একটা কারণ হচ্ছে এর অনেকগুলো স্পেস আছে, আর গল্পটা লিনিয়ার স্ট্রাকচার ফলো করলেও কখনো ননলিনিয়ার হয়ে উঠেছে, আবার কখনো থটস্পেসে চলে গেছে। আর সেই স্পেসগুলোতে অভিনয় করা অভিনেতা হিসেবে খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। আর আমার চরিত্রটি, ‘বিশ্বকর্মা’, এত লেয়ার্ড একটা চরিত্র এবং তার এত বিচিত্র একটা সাইকোলজিকাল জার্নি আছে পুরো ছবি জুড়ে, সেটা আমার দারুণ লেগেছে।’

অভিনেত্রী দেবলীনা দত্তও দ্বিতীয়বার কাজ করছেন পরিচালক বাপ্পার সঙ্গে। তাঁর মতে, ‘এই গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বকর্মার সাথে মালা’র চরিত্রের কেমিস্ট্রি। এই গল্প সত্যিই বিরল, আশা করব, দর্শকের মন ছুয়ে যাবে। এছাড়াও খুবই সুন্দর গান রয়েছে। আসলে গোটা ছবিটাই একটা পাওয়ার প্যাকেজ। সব কিছু উপাদান রয়েছে যা একটা সিনেমাকে দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।’

কেবল এটিই নয়, বনি-প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে আরো একটি ছবি তৈরী করছেন পরিচালক বাপ্পা। ছবির নাম ‘রবিন’স কিচেন’। শ্যুটিং শেষ হয়ে গিয়েছে সেই ছবিরও। জানা গিয়েছে, চলতি বছরেই বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে সেই ছবি। যদিও ‘নেগেটিভ’-এর মুক্তির তারিখ জানা যায়নি এখনো।

রাহুল-দেবলীনার এই অফবিট রসায়ন এবং টানাপোড়েন, দর্শকের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

Author

  • Debasmita Biswas

    বেথুন কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক। পড়ার নেশা ছোট থেকে, প্রাথমিকভাবে লেখালেখির শুরু শখেই। তারপর সংবাদপত্র, পত্র-পত্রিকায় সমালোচনা পড়ার অভ্যাস আর বিভিন্ন নাটক, সিনেমা দেখার পর বিশ্লেষণ করার শখ থেকেই ইচ্ছে সমালোচক হওয়ার। বিনোদনজগতের বিভিন্ন খবর করার পাশাপাশি নাটক এবং সিনেমা দেখে তার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন তিনি।

Scroll to Top