বাঙালির মনের সুর টা ঠিক ঠাক ধরতে পেরেছেন অরিজিৎ – ইন্দ্রদীপ

কাবুলিওয়ালা সিনেমাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আপনি হল থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবেন, কিন্তু পারবেন না । কেনো ? হঠাৎ করে একটা অতি চেনা পরিচিত কণ্ঠে ভেসে আসবে – “ভাব যদি ঘুরে আসা যায়, পদচিহ্নের ধারাপাতের সাক্ষী হয়ে…”  এক মুহূর্তের জন্য একটা মায়াবী কণ্ঠ আপনাকে বশীভূত করে দেবে । আপনার মাথা বলবে – সিনেমা তো শেষ ! বেরিয়ে যাওয়া ই উচিৎ । কিন্তু সাথে সাথে একটা ক্ষীণ শব্দে শুনতে পাবেন, মন বলছে – একটু দাড়িয়েই যাই। আর কোন একটা অদ্ভুত অজানা কারণে কখন যে আপনি ওখানেই থ হয়ে সিনেমার ক্রেডিট দেখতে থাকবেন আপনি নিজেও ধরতে পারবেন না। ভাবছেন কারণ টা কি? কারণ টা অরিজিৎ ম্যাজিক ।

একটা অদ্ভুত মায়া জড়ানো সুর, যেটা শোনার পর মানুষ রোজকার যুক্তি গুলো থেকে দূরে সরে যেতে চায়। বাঁধা ধরা প্রতিদিনের নিয়ম গুলো খুঁজতে চায় না । সমস্ত কাজ ফেলে বোকার মতো হা করে শুধু শোনে আর শুনে যায় । 

সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া কাবুলিওয়ালা সিনেমায় আপনারা শুনতে পারবেন – সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরে “ভাব যদি” গানটি, গেয়েছেন অরিজিৎ সিং।  এই প্রসঙ্গে ইন্দ্রদীপ – অরিজিৎ জুটি টা নিয়েও একটু বলা দরকার।  ইন্দ্রদীপ সেই সব প্রথম সারির সঙ্গীত নির্দেশকের মধ্যে পড়ে যারা অরিজিৎ সিং এর ওপর সেই গোড়ার থেকে ভরসা জুগিয়েছিলেন । তাদের জুটি বাংলা সঙ্গীত জগৎ কে উপহার দিয়েছে কিছু ক্লাসিক । মনে পড়ে খাদ সিনেমার – দেখো আলোয় আলো আকাশ, সমান্তরাল সিনেমার – তুই ছুলি যখন, বোঝেনা সে বোঝেনা, চাঁদের পাহাড়, অ্যামাজন অভিযান, ইয়েতি অভিযান এর মত অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার গান গুলো, আরো অনেক অনেক মনে দাগ ফেলে যাওয়া গান।

আর এই জুটিতে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের লেখা। শুধু অভিনয় আর নির্দেশনা নয়, অনির্বাণ তার লেখা দিয়েও মাতিয়ে তোলেন বাঙালি শ্রোতাদের। এর উদাহরন আমরা এর আগেও পেয়েছি, আবারও পেলাম নতুন করে। “খোলা আছে দ্বার, এসো বার বার, ক্লান্ত তবু জেগে আছে এ শহর” – প্রতিটা শব্দ কাবুলিওয়ালার ভেতরের ব্যথা আর এই ভালোবাসার শহরের প্রতিটা ভালোবাসার মানুষের সাথে সাথে প্রতিটা  ইট কাঠ বালির অসহায়তা কে মিলিয়ে একাকার করে দেয়। 

 

আজ প্রতিটা বাঙালির কাছে গিয়ে গিয়ে অরিজিৎ কে নিয়ে প্রশ্ন করলে একটা উত্তর হয়তো সবচেয়ে কমন আসবে যে – উনি তো মাটির মানুষ! আজ অরিজিৎ সিং এর উচ্চতা আকাশ সমান হলেও ওনার পা কিন্তু সেই মাটিতেই । আর সেটাই হয়তো অরিজিৎ ম্যাজিক এর ইন্ধন । 

আজ একটা পশ্চিমী চিন্তা ধরার ছেলে বা মেয়েও অরিজিতের গাওয়া রামপ্রসাদী গান – মন রে কৃষি কাজ জানোনা লুপে চালিয়ে শুনছে, এটাই অরিজিৎ ম্যাজিক, বাড়ির বড় থেকে ক্ষুদে বাচ্চা সবার পছন্দের সিঙ্গার অরিজিৎ, হয়তো এটাই অরিজিৎ ম্যাজিক, আবার সোনু থেকে কুমার শানু, উদিত থেকে আতিফ, পাপন থেকে জুবিন দেশের সমস্ত বড় শিল্পী, উঠতি নতুন শিল্পী, সবার প্রিয় অরিজিৎ, হয়তো বা এটাই অরিজিৎ ম্যাজিক।  

আর এই ম্যাজিকেই কাজে লাগিয়েছেন কাবুলিওয়ালা নির্মাতা সুমন ঘোষ, ম্যাজিক টা কাজ ও করেছে। মেটা র প্ল্যাটফর্ম গুলি তে গান টা আসার সাথে সাথেই শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়। এতে নির্মাতারা গানটিকে ইউটিউব এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও ছড়িয়ে দেয়। মুকুটে ময়ূর পালক হয়ে দাঁড়ায় ব্যকগ্রাউন্ডে মিঠুন ওরফে রহমত, অনুমেঘা, আবির আর সোহিনীর অসাধারণ অভিনয়, অসাধারণ কালার গ্রেডিং, সব মিলিয়ে গানটির ভিসিউল আপিল কে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। বলাই বাহুল্য কাবুলিওয়ালা এক কোটির ব্যবসা অতিক্রম করে বছরের শেষে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে একটা বক্স অফিস হিট দিয়ে বছরটির শুভ সমাপ্তির ঘোষণা করল ।

Author

Scroll to Top