Bhootpori Review: জয়া-ঋত্বিকদের জাদুতে ভূত কি পারল পরী হতে?

পরিচালক জানিয়েছিলেন, মানুষের সঙ্গে ভূতের ‘কানেকশন’ নিয়ে তাঁর একটা ছবি বানানোর স্বপ্ন ‘ভূতের রাজা’র মুগ্ধতা থেকেই। সৌকর্য ঘোষালের নতুন ছবি ‘ভূতপরী’ কি পারল দর্শকদের মুগ্ধ করতে?

বাচ্চা ছেলে সূর্যর (বিষান্তক মুখার্জী) স্লিপ-ওয়াকিং, হ্যালুসিনেশনের মত মনের রোগ সারাতে, ডাক্তারের পরামর্শে তাকে কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাড়ীতে ঘুরতে নিয়ে যায় তার বাবা-মা। সেখানে দুর্গাবাড়ীর জঙ্গল, মাখন-চোর (ঋত্বিক চক্রবর্তী) আর বনলতার আত্মাকে (জয়া এহসান) ঘিরে এক রহস্যের জাল বোনে সূর্যর চারপাশে। বনলতার মৃত্যু হয়েছিল বছর-সত্তর আগে, কিন্তু আদৌ কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল, তা সে জানে না। আবার কালো ঠাকুরের (শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়) বংশধর সূর্য ছাড়া কেউ কোনোদিনই স্পর্শ করতে পারে না তাকে। অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাখন-চোরের সাহায্য নেয় সূর্য। আদৌ কি সব প্রশ্নের উত্তর পায় সে?

গল্প বলার জন্য ভীষণ সুন্দর, সংবেদনশীল একটা প্লট নির্বাচন করেছেন পরিচালক। ছবির সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্রত্যেক কলাকুশলীর অভিনয়দক্ষতা।

এর আগেও জয়া অভিনয় করেছেন এপার বাংলার অনেক ছবিতেই। কাজ করেছেন কৌশিক গাঙ্গুলীর মত অভিনেতার সঙ্গেও। সম্প্রতি ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিতে তাঁর কাজ যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে। এ ছবিতেও যথারীতি ব্যতিক্রম নন তিনি। বহুদিন পর, ‘গোরা’র মোড়ক থেকে বেরিয়ে এসে, মাখনের চরিত্রে নিজের পুরনো ফর্মে ফিরেছেন ঋত্বিক। এতজন তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে সাবলীলভাবে অভিনয় করে গিয়েছে ছোট্ট বিষান্তক।

জয়া-ঋত্বিক-বিষান্তকের দুর্দান্ত রসায়ন ছাড়াও, পরিচারক বানোয়ারি থেকে গ্রামের ময়রা পর্যন্ত, বড় থেকে ছোট প্রত্যেক চরিত্রই অত্যন্ত যত্ন নিয়ে প্রত্যেকে ফুটিয়ে তুলেছেন পর্দায়। সূর্যর মা শিলালিপির চরিত্রে সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং কালো ঠাকুরের চরিত্রে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় যথারীতি অসাধারণ।

তবে কিছু কিছু জায়গায় মনোযোগ ব্যাহত করেছে ছবির ধীরগতি। বেশ কিছু বাড়তি দৃশ্যের উপস্থিতিও রয়েছে। একই দৃশ্য বারংবার ব্যবহার হয়েছে কোথাও! বনলতা বা সূর্যর অতিপ্রাকৃত শক্তির উৎস বা এমনই আরো বেশ কিছু প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় না ছবির শেষে। জানা যায় না, হঠাৎ কেন ছেলেকে নিয়ে নিরুদ্বেগ হয়ে পড়ে শিলালিপি! সময়ের কাঁটা হঠাৎ পুজোর তিথিই বা ছুঁয়ে ফেলে কখন! দর্শকের কল্পনাশক্তির উপর ভরসা করেই কি এভাবে তৈরী করেছেন পরিচালক, প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যায়।

তবে ছবির মধ্যে রামপ্রসাদী গানের ব্যবহার ভালো লেগেছে বেশ। সুন্দর ক্যামেরার কাজ, আবহ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের কথা উল্লেখ না করলে অন্যায় করা হয়।

‘সুরিন্দর ফিল্মস’-এর প্রযোজনায়, সৌকর্য ঘোষালের কাহিনী এবং পরিচালনায় ‘ভূতপরী’ মুক্তি পেয়েছে গত ৯ই ফেব্রুয়ারি। চারপাশের একঘেয়ে খুনখারাপি-গালিগালাজের ভীড় থেকে মুক্তি পেতে সপরিবারে একবার দেখেই আসতে পারেন ‘ভূতপরী’।

Author

  • Debasmita Biswas

    বেথুন কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক। পড়ার নেশা ছোট থেকে, প্রাথমিকভাবে লেখালেখির শুরু শখেই। তারপর সংবাদপত্র, পত্র-পত্রিকায় সমালোচনা পড়ার অভ্যাস আর বিভিন্ন নাটক, সিনেমা দেখার পর বিশ্লেষণ করার শখ থেকেই ইচ্ছে সমালোচক হওয়ার। বিনোদনজগতের বিভিন্ন খবর করার পাশাপাশি নাটক এবং সিনেমা দেখে তার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন তিনি।

Scroll to Top