কী নাম প্রয়াত অভিনেতা পার্থসারথি দেবের শেষ ছবির?

বহুদিনের অসুস্থতার পরে, গত শুক্রবার রাতেই প্রয়াত হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা পার্থসারথি দেব। ধারাবাহিক থেকে সাময়িক বিরতি নিলেও, কাজ থেকে অবসর নেননি তিনি। তাঁর শেষ ছবি ‘The Next Ideation Entertainment’ প্রযোজিত, শিবাজী দত্ত পরিচালিত ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’।

বর্তমানের এই যান্ত্রিকজীবন সবচেয়ে প্রভাব ফেলে বোধহয় বাচ্চাদের উপরেই। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে মুখোপাধ্যায় পরিবার। সত্তরোর্ধ্ব প্রবোধচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সংসার ছেলে অমিতাভ, বৌমা হেম এবং দুই নাতি মেঘ আর বিদ্যুৎকে নিয়ে। মিষ্টির দোকানের ব্যবসায় মন দিতে গিয়ে একসময় প্রবোধচন্দ্র অবহেলা করেছেন তাঁর পরিবারকে। ব্যবসা থেকে অবসর নেওয়ার পরে তিনি বুঝতে পারেন, সেই অবহেলা আরো কয়েকগুণ বেড়ে এখন ফিরে আসছে। কেবল তাঁকে নয়, মেঘ-বিদ্যুৎকেও সময় দেয় না অমিতাভ এবং হেম।

সংসারের পিছনে সময় দেওয়ার চেয়ে বিভিন্ন পার্টি বা সুন্দরী মেয়েদের পিছনে সময় দেওয়াকেই বেশী গুরুত্ব দেয় অমিতাভ। অন্যদিকে, কর্পোরেট চাকুরে হেম আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় গর্বিত বটে, তবে স্বামীর কাছে হাত পাততে কুণ্ঠা নেই তার। পরিশ্রমের চেয়ে সে তোষামোদকেই সিঁড়ি বানিয়েছে পদোন্নতির।

তাদের বড় ছেলে মেঘ ভোগে একাকিত্বে। দাদুর যত্ন পেলেও, মা-বাবার সময় সে পায় না। সময়ের বিকল্প হিসেবে ছেলের জন্মদিনে তারা উপহার দেয় একটা আইফোন। আর তারপর থেকেই, AI-এর সাহায্যে সে তৈরী করে এক কাল্পনিক ‘খেলাঘর’, এক কাল্পনিক বন্ধু। মেঘের কাছে সে-ই একমাত্র জীবন্ত হয়ে ওঠে।

বাড়িতে অবহেলা এবং স্কুলে র‍্যাগিংয়ের শিকার মেঘকে তার দাদু গল্প শোনায় নিজের ছোটবেলার, আমোদপুর গ্রামের, বন্ধু এবং গোপন প্রেয়সীর।

ছোটদের জন্য বানানো এই চলচ্চিত্রে ফুটে উঠেছে বর্তমান প্রজন্মের উপর আধুনিক প্রযুক্তির কুপ্রভাব। ফিরে এসেছে দাদু-ঠাকুমার হারিয়ে যাওয়া শৈশব, পুরনো রেডিওর ফ্রিকোয়েন্সি, যাত্রাপালার হাস্যকর দৃশ্য, গ্রামের মেঠো পথ। যে দুই স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক মানুষের জন্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল দুটো শৈশব, তাদের কি ক্ষমা করতে পারবে মেঘ?

ছবিতে মুখ্য চরিত্রে, অর্থাৎ প্রবোধচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে জীবনের শেষ অভিনয় করেছেন প্রয়াত অভিনেতা পার্থসারথি দেব। এছাড়া এই ছবিতে দেখা মিলবে জয় সেনগুপ্ত, বাসবদত্তা চ্যাটার্জী, প্লাবন দেব, ধ্রুব মুখার্জী, সকৃত মুখার্জী, সৃজা ভট্টাচার্য্য, প্রফেসর রঞ্জন দাস প্রমুখের।

ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রীতম দেবনাথ। অর্জুন রায়, পাপিয়া এবং প্রীতম দেবনাথের গলায় শোনা যাবে গান।

Author

  • Debasmita Biswas

    বেথুন কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক। পড়ার নেশা ছোট থেকে, প্রাথমিকভাবে লেখালেখির শুরু শখেই। তারপর সংবাদপত্র, পত্র-পত্রিকায় সমালোচনা পড়ার অভ্যাস আর বিভিন্ন নাটক, সিনেমা দেখার পর বিশ্লেষণ করার শখ থেকেই ইচ্ছে সমালোচক হওয়ার। বিনোদনজগতের বিভিন্ন খবর করার পাশাপাশি নাটক এবং সিনেমা দেখে তার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন তিনি।

Scroll to Top