Live Entertainment & Love Lifestyle

Friday, April 4, 2025
Entertainment

Zoutenn: ‘সোহাগে আদরে’ বাঁধা পড়েছেন ভারতীয় ভাষার সঙ্গে, কে এই আফ্রিকান গায়ক?

 

  এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী মানসী সিনহা একটা ভীষণ মূল্যবান কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘অভিনয়শিল্পীর কোনো দেশ হয় না, কোনো গণ্ডি হয় না।’ কেবল অভিনয়শিল্পী নয়, এই কথাটা বোধহয় যেকোনো শিল্পীর ক্ষেত্রেই সমান লাগসই।

এই যেমন কয়েকদিন আগেই ভাইরাল হয়েছিল একটা খবর। কেরালার মেয়ে সুচেতা সতীশ বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন একটি কনসার্টে ১৪০টি ভাষায় গান গেয়ে। নিশ্চিতভাবেই খুশী হয়েছিল সকল ভারতবাসী। নিজের দেশের মানুষ এতগুলো ভাষা জানলে, নিঃসন্দেহে ভাল লাগারই কথা। কিন্তু একেবারে অন্য দেশের, এমনকি অন্য মহাদেশের একজন মানুষ এই ভারতেরই বাংলাসহ একাধিক ভাষা জানলে, সে ভাষায় গান করলে, সেই ‘ভালোলাগা’টাই কয়েকগুণ বেড়ে যায় না কি?

      অনেকেই নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছেন, কথা হচ্ছে আফ্রিকান শিল্পী জ়ুটেনকে নিয়ে, যাঁকে এই মুহূর্তে বেশীরভাগ মানুষ চেনেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম আইডি ‘atikblues’ নামে। সম্প্রতি রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘আমারও পরান যাহা চায়’ আর বাংলা বাউলগান ‘দেখেছি রূপসাগরে’ গাওয়ার পর থেকেই নেটাগরিকদের নজর কেড়েছেন তিনি। অবশ্য তার আগেও অনুপম রায়ের ‘বন্ধু চল’, ‘সোহাগে আদরে’ থেকে কিশোরকুমার আশা ভোঁসলের ‘কথা দিলাম’, ‘চন্দ্রবিন্দু’র ‘ভিনদেশী তারা’ থেকে ‘মেঘদল’-এর ‘এ হাওয়া’ – তাঁর গানের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি কিছুই। সম্প্রতি তিনি গেয়েছেন অঞ্জন দত্তের ‘বেলা বোস’, যা ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছে সাত লক্ষাধিক ভিউজ়। ‘দেখেছি রূপসাগরে’ পেয়েছে আড়াই লক্ষাধিক ভিউজ়।

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকেই তাঁর প্রোফাইলে ঘোরাফেরা করছে বিভিন্ন হিন্দি গানের টুকরোটাকরা অংশ। তাঁর প্রোফাইলের পরিচয়েই লেখা রয়েছে, হিন্দিভাষা শিখছেন তিনি। তাঁর প্রথম ভিডিওতেও তিনি হিন্দিভাষাতেই জানিয়েছিলেন, ‘হিন্দি আমার ভাল লাগে, হিন্দি গান আমার ভাল লাগে।’ কিন্তু প্রোফাইলে উঁকি দিলে বোঝা যায়, কেবল হিন্দি বা বাংলা নয়, নেপালি, কন্নড় বা মারাঠি গানেও সমান স্বচ্ছন্দ জ়ুটেন।

এমন একজন মানুষকে ভালো না বেসে কি থাকতে পারে নেটদুনিয়া? স্বাভাবিকভাবেই ভালবাসা উপচে পড়েছে জ়ুটেনের কমেন্ট সেকশনে। অসংখ্য বাংলা গানের আবদার ও প্রশংসায় ভরে গেছে তাঁর প্রোফাইল। কেউ প্রশংসা করেছেন তাঁর উচ্চারণের। কেউ বলেছেন, তাঁর ভক্ত হয়ে গেছেন ইতিমধ্যেই। আবার, অনেক বাঙালীর থেকেও বাংলাগানের আবেগ অনেক বেশী অনুভব করেছেন জ়ুটেন, এমনও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

      আজকের পৃথিবীর বুকে আবেগের জায়গা নিতান্তই কম। খবরের কাগজ খুললেই চোখ রাঙায় চারপাশের হিংসা, যুদ্ধ, লালসা। এসব থেকে কোনোমতে চোখ ফেরাতে পারলেও, কর্মব্যস্ততা, ‘স্ট্রেস’ থেকে চোখ ফেরানো সম্ভব হয়ে ওঠে না সেভাবে। কিন্তু তার মাঝেই আমাদের জীবনে কখনো কখনো ঠিক জুটে যায় একজন করে ‘পাগলা গণেশ’। তাঁদের গান-আঁকা-কবিতার ছেঁড়া পাতা সব ঋণাত্মক শক্তি ভাসিয়ে নিয়ে যায় আমাদের থেকে। এই জ়ুটেনরাই হয়ত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বারবার ঠিক বাঁচিয়ে দেন আমাদের পৃথিবীটাকে, গানে-গল্পে-কবিতায় মুড়ে…

Author

  • Debasmita Biswas

    বেথুন কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক। পড়ার নেশা ছোট থেকে, প্রাথমিকভাবে লেখালেখির শুরু শখেই। তারপর সংবাদপত্র, পত্র-পত্রিকায় সমালোচনা পড়ার অভ্যাস আর বিভিন্ন নাটক, সিনেমা দেখার পর বিশ্লেষণ করার শখ থেকেই ইচ্ছে সমালোচক হওয়ার। বিনোদনজগতের বিভিন্ন খবর করার পাশাপাশি নাটক এবং সিনেমা দেখে তার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন তিনি।

    View all posts

Debasmita Biswas

বেথুন কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক। পড়ার নেশা ছোট থেকে, প্রাথমিকভাবে লেখালেখির শুরু শখেই। তারপর সংবাদপত্র, পত্র-পত্রিকায় সমালোচনা পড়ার অভ্যাস আর বিভিন্ন নাটক, সিনেমা দেখার পর বিশ্লেষণ করার শখ থেকেই ইচ্ছে সমালোচক হওয়ার। বিনোদনজগতের বিভিন্ন খবর করার পাশাপাশি নাটক এবং সিনেমা দেখে তার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন তিনি।